অনুচ্ছেদে উল্লিখিত হাদিসটি বিখ্যাত হাদিস গ্রন্থ 'তিরমিযী শরীফ' থেকে নেওয়া।
বড়দের কর্তব্য হচ্ছে ছোটদের আদর-সোহাগ করা, তাদের সুন্দর আচার-আচরণ শিক্ষা দেওয়া। কারণ আমরা যদি ছোটদের আদর-স্নেহ করি তাহলে ছোটরা আনন্দমনে আগ্রহের সঙ্গে উপদেশ গ্রহণ করবে 'এবং এতে তাদের মনের প্রসারতা বাড়বে। তাছাড়া ছোটরা আদর-স্নেহ পেলে বড়দের সম্মান করতে শেখে। ফলে তারা আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে ওঠে।
সাজিদ আহসান নিম্নোক্ত উপায়ে বড়দের সম্মান দেখাবে-
১. তাঁদের আদেশ-নিষেধ মেনে চলবে।
২. তাঁদের সাথে উত্তম ব্যবহার করবে।
৩. সাক্ষাৎ হলে বিনয়ের সাথে সালাম দিয়ে খোঁজখবর নেবে।
৪. তাঁরা যে উপদেশ দেন, তা মনোযোগ সহকারে শুনবে ও সেভাবে তা পালন করবে।
৫. সবসময় তাঁদের সাথে নম্র আচরণ করবে।
৬. তাঁদের বিপদে-আপদে খোঁজখবর নেবে, অসুখ-বিসুখ হলে সেবাযত্ন করবে।
৭. যথাসাধ্য তাদের সাহায্য-সহযোগিতা করবে।
৮. জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁদের উত্তম শিক্ষা মেনে চলবে।
৯. এমন কাজ করবে না, যা তাঁরা পছন্দ করেন না।
১০. কোনো অবস্থাতেই তাঁদের সাথে বেয়াদবি করবে না।
১১. তাঁদের কল্যাণ করবে এবং মৃত্যুর পর তাঁদের জন্য দুআ করবে।
সহপাঠীরা আমাদের প্রিয়জন। তাদের সাথে আমাদের এক আন্তরিক ও মধুর সম্পর্ক রয়েছে। স্কুলে থাকাকালীন আমরা একে অপরের সুবিধা-অসুবিধার প্রতি লক্ষ রাখি। কেউ অসুস্থ হলে তার সেবা করি, প্রয়োজনে তাকে ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাই। কারও কাগজ, কলম, পেন্সিল ইত্যাদি না থাকলে তাকে তা দিয়ে সাহায্য করি। সেই কোনো কারণে বিষণ্ণ বা চিহ্নিত হলে তার বিষণ্ণভাব দূর করতে চেষ্টা করি। কারও কোনো দুঃসংবাদ আসলে তাকে আমরা সান্ত্বনা দেই, ধৈর্যধারণ করতে বলি। কারও কোনো সুখবর পেলে আমরা তার আনন্দে শরীক হই। সহপাঠীদের সাথে ভালো ব্যবহার করলে স্কুলে এক সুন্দর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। শিক্ষকগণ ছাত্রদের প্রতি খুশি হন। আমরা আমাদের সহপাঠীদের সাথে সবসময় ভালো ব্যবহার করব, সকলে মিলেমিশে থাকব। কারও সাথে ঝগড়া করব না। কাউকে হিংসা করব না- এতে আল্লাহ আমাদের প্রতি খুশি হবেন।
Related Question
View Allসিদক-এর অর্থ হলো- সত্যবাদিতা, সততা, সত্য কথা বলা, সত্য সাক্ষ্য দেওয়া ইত্যাদি।
মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টিকে আখলাকে হামিদা বা উত্তম চরিত্র বলা হয়।
ফারজানার কর্মকাণ্ডে গিবত প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে তার বন্ধবী কাকলির বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দোষত্রুটি অন্য সহকর্মীদের নিকট বলে বেড়ায়।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে। একে পরনিন্দাও বলা যায়। গিবত একটি ঘৃণিত ও জঘন্য কাজ। এটি কবিরা গুনাহ। এ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। রাসুল (স.) বলে, 'গিবত কী তা কি তোমরা জান?' লোকেরা উত্তরে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুল (স.) বললেন, গিবত হলো তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে তোমার এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, আমি যা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, এটাও কি গিবত হবে? রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, 'তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই গিবত হবে। আর তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তা হবে 'বুহতান' বা অপবাদ।' (মুসলিম)
গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। গিবতের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে সমাজজীবনে ঝগড়া-ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কুরআনুল করিমে গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আল্লাহর বাণী : "তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে, নিশ্চয়ই তা তোমরা অপছন্দ করবে।" (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)
তাই ফারাজানার উচিত গিবত পরিহার করা এবং স্বাভাবিকভাবে কাকলির পদোন্নতিকে মেনে নেওয়া।
ফারজানা কাকলির দোষত্রুটি প্রকাশ করলে, হামিদা বেগম বলেন, "আপা, কোনো অবস্থাতেই কাকলি আপার অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে সমালোচনা করা ঠিক নয়।" হামিদা বেগমের এ বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি প্রকাশ করার নাম গিবত। গিবত করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এটি কবিরাহ গুনাহ। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা একে অপরের গিবত করো না।" (সূরা আল 'হুজুরাত : ১২) গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং সমাজজীবনে ঝগড়া ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়। গিবত শোনাও পাপ, কেউ গিবত করলে 'তাকে এ জঘন্য কাজ হতে বিরত রাখা উচিত। আর এ কাজটিই হামিদা বেগম করেছেন। গিবত থেকে বিরত থাকলে কবিরাহ গুনাহ হতে বেঁচে থাকা যায়, অন্যের শত্রুতা হতে রক্ষা পাওয়া যায়। সর্বোপরি আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
সুতরাং সবার উচিত গিবত হতে নিজেকে রক্ষা করা এবং গিবত চর্চা প্রতিরোধে এগিয়ে আসা।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে।
আখলাকে হামিদাহ্ বা সচ্চরিত্র আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। দুনিয়ায় আগত সকল নবি-রাসুলই উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। এছাড়াও পৃথিবীর স্মরণীয় ও বরণীয় মনীষিগণও উত্তম নৈতিক আদর্শ অনুশীলন করতেন। সচ্চরিত্রের মাধ্যমেই ইসলামের যাবতীয় সৌন্দর্য ফুটে ওে ওঠে। এছাড়া এর মাধ্যমে ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন সুন্দর ও কল্যাণময় করা যায়। এজন্য আখলাকে হামিদাত্র বিশেষ প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!